????????

কবর জিয়ারতের বিধি বিধান

আবদুল্লাহ বিন বারিদা থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, তোমরা কবরস্থানে গমন কর, কেননা এটা তোমাদের আখেরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।’ (মুসলিম, তিরমিজি)।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) তাঁর মায়ের কবর জিয়ারত করে এত কাঁদলেন যে, তাঁর কান্না দেখে আশপাশের সবাই কাঁদল। তারপর রাসূল (সা.) বললেন, ‘আমি আমার প্রভুর কাছে অনুমতি চেয়েছি আমার মায়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার। কিন্তু আমাকে অনুমতি দেয়া হয়নি। অতঃপর অনুমতি চাই মায়ের কবর জিয়ারত করার জন্য। এবার আমাকে অনুমতি দেয়া হলো। অতএব, তোমরা কবর জিয়ারত কর। কেননা এটা আখেরাতকে স্মরণ করিয়ে দেয়।’ (মুসলিম, আবু দাউদ)।

আয়েশা (রা.) বলেন, ‘একদিন নবীজী (সা.) আমার কাছে রাতযাপন করেন সে দিন তিনি শেষ রাতে জান্নাতুল বাকি নামক কবরস্থানের উদ্দেশে বেরিয়ে যান।’ (মুসলিম)।

কবর জিয়ারত আমাদের প্রিয় নবীর (সা.) একটি গুরত্বপূর্ণ সুন্নত। দুনিয়ার মোহ ও প্রাচুর্যের চাকচিক্যে ভুলে থাকা মানুষদের মাঝে-মধ্যেই কবরস্থানে গমন করা উচিত। কেননা এটা নিজেদের সংযত করতে, আল্লাহ ও পরকালের কথা স্মরণ করাতে খুবই সহায়ক। মাইয়্যিত কে দাফন করার পর কবরস্থান ছেড়ে আসা প্রসঙ্গে

আমাদের অনেকেরই মধ্যে এই নিয়মটা প্রচলিত আছে যে মুসলমানদের দাফন করার পর দ্রুত কবরস্থান থেকে চলে আসতে হয় কারণ নাকি ফেরেশতারা অপেক্ষা করেন কবরবাসীকে প্রশ্ন করার জন্য, কিন্তু এই ধারনাটি ভুল। স্বয়ং আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ (সঃ) নিজেই বলে গিয়েছেন দাফন করার পর কবরস্থান ত্যাগ করা প্রসঙ্গে।


আরবী হাদিস

وَعَنْ عَمرِو بنِ العَاصِ رضي الله عنه، قَالَ: إِذَا دَفَنْتُمُونِي، فَأَقِيمُوا حَوْلَ قَبْرِي قَدْرَ مَا تُنْحَرُ جَزُورٌ، وَيُقَسَّمُ لَحمُهَا حَتَّى أَسْتَأنِسَ بِكُمْ، وَأعْلَمَ مَاذَا أُرَاجِعُ بِهِ رُسُلَ رَبِّي. رواه مسلم. وَقَدْ سبق بطوله. قَالَ الشَّافِعِيُّ رَحِمَهُ اللهُ: وَيُسْتَحَبُّ أنْ يُقْرَأ عِنْدَهُ شَيْءٌ مِنَ القُرآنِ، وَإنْ خَتَمُوا القُرآنَ عِنْدَهُ كَانَ حَسَنَاً.

বাংলা অনুবাদঃ
আমর ইবনে আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, তোমরা যখন আমাকে সমাধিস্থ করবে, তখন আমার কবরের আশ-পাশে তোমরা ততক্ষণ অবস্থান করবে, যতক্ষণ একটা উট জবেহ করে তার মাংস বণ্টন করতে লাগে। যেন আমি তোমাদের পেয়ে নিঃসঙ্গতা বোধ না করি এবং জেনে নিই যে, আমি আমার প্রভুর দূতগণকে কী জবাব দিচ্ছি।’
তথ্যসূত্রঃ [মুসলিম ১২১, আহমদ ১৭৩২৬,১৭৩৫৭]

ইমাম ইবনুল কায়িম (রহ.) বলেছেন, রাসূল (সা.) যখন কবর জিয়ারত করতেন, কবরের অধিবাসীদের জন্য দোয়া করা এবং তাদের জন্য ক্ষমা চাওয়ার উদ্দেশ্যেই জিয়ারত করতেন।

(ফিকহুস সুন্নাহ।)


কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যই হচ্ছে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা এবং নিজেদের মনে মৃত্যুভয় জাগ্রত করা। দোয়া যে কোন স্থানে বসে করা যায়, এর জন্য কবরের পাশে উপস্থিত হওয়া জরুরী নয়।

বিভিন্ন হাদিস থেকে জানা যায়, রাসূল (সা.) প্রায় সময়ই শেষ রাতে কবর জিয়ারত করতেন। তাই সম্ভব হলে শেষ রাতে কবর জিয়ারত করা উত্তম। কেননা মন তখন অধিক নরম থাকে। তাছাড়া অন্য সময়ও কবর জিয়ারত করা রাসূল (সা.) থেকে প্রমাণিত।

অধিকাংশ আলেমের মতে, জুতা-স্যান্ডেল পায়ে রেখে কবরের কাছে যাওয়া যায়। তবে ইমাম আহমদের মতে, প্রয়োজন না হলে জুতাসহ যাওয়া মাকরুহ। (ফিকহুস সুন্নাহ)।

জিয়ারতকারী যখন কবরের কাছে পৌঁছবে, মৃত ব্যক্তির মাথা বরাবর কিবলামুখী হয়ে দাঁড়াবে। জিয়ারতকারী কবরবাসীকে সম্বোধন করে সালাম দেবে এবং তাদের জন্য মহান প্রভুর কাছে ক্ষমা চেয়ে দোয়া করবে। এ ক্ষেত্রে হাত তুলে ও না তুলে উভয় অবস্থায় দোয়া করা যাবে। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) বাকি কবরস্থানে পৌঁছে হাত উঠিয়ে দোয়া করেছিলেন। (মুসলিম)

কবরস্থানে প্রবেশ করে প্রথমেই,
সমস্ত কবরবাসীর উদ্দেশ্যে সালাম করবে। সালামের বিভিন্ন শব্দ রয়েছে। তন্মোধ্যে সব‘চে সংক্ষিপ্ত শব্দ হল, اَلسَّلاَمُ عَلَيْكُمْ يَا اَهْلَ الْقُبُوْرِ (উচ্চারণঃ আস্সালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবুর, অর্থঃ হে কবরবাসী! তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক)। (দেখুনঃ আহকামে মাইয়্যেত)

সম্পূর্ন সালামটি হলোঃ
"আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবুরি মিনাল মুসলিমিনা ওয়াল মুসলিমাতি ওয়াল মু'মিনিনা ওয়াল মু'মিনাত আনতুম লানা ছাওফুও ওয়া নাহনু লাকুম তাবাউওন ইন্না ইনশাআল্লাহ হা বিকুম লা হিক্কুন।"

ইহা পাঠের পর তওবা শরীফ ১১বার পাঠ করবেন। তওবা শরীফ হলোঃ
"আস্তাগফিরুল্লাহ ইন্নাল্লাহা গাফুরুর রাহিম"

এরপর দুরুদ শরীফ পাঠ করবেন ১১বারঃ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
আয়াতুল কুরসী পাঠ করার ও অনেক ফজীলত রয়েছে, তাই কবর জিয়ারতে এই পবিত্র সুরাটি পাঠ করতে পারেন। এক্ষেত্রে তিনবার পাঠ করতে পারেন।

আয়াতুল কুরসী

আল্লহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্বইয়্যুমু লা তা খুজুহু সিনাত্যু ওয়ালা নাউম। লাহু মা ফিছছামা ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ্। মান যাল্লাযী ইয়াস ফায়ু ইন দাহু ইল্লা বি ইজনিহি ইয়া লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খল ফাহুম ওয়ালা ইউ হিতুনা বিশাই ইম্ মিন ইল্ মিহি ইল্লা বিমা সাআ ওয়াসিয়া কুরসিইউ হুস ছামা ওয়াতি ওয়াল আরদ্ ওয়ালা ইয়া উদুহু হিফজুহুমা ওয়াহুয়াল আলিয়্যূল আজীম।

اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ

সবকিছু পাঠ শেষে মৃত ব্যক্তির আত্তার শান্তি কামনা করে, কবরের আজাব থেকে নিস্তার প্রার্থনা করে, জান্নাত দানের জন্য প্রার্থনা করে নরম হৃদয়ে মহান আল্লাহর নিকট মোনাজাত করবেন। ইহা আপনার সম্পূর্নই ব্যক্তিগত চাওয়া মহান আল্লাহর প্রতি। এর পাশাপাশি কবর জিয়ারতের জন্য এই মোনাজাত টি করতে পারেনঃ

" আল্লাহুম্মাগ-ফিরলি হায়্যিনা ও মায়্যিতিনা ওয়া শা হিদিনা ওয়া গা-ইবিনা ওয়া সাগিরিনা ওয়া কাবিরিনা ওয়া যাকারিনা ওয়া উনসানাহ, আল্লহ-হুম্মা মান আহইয়াই তাহু মিন্না ফা আহ-ই-আলাল ইসলাম ওয়ামান তাওয়াফা-ফাইতাহু মিন্না ফাতা ওয়াফফা হু আলাল ঈমান "

তিলাওয়াত ও দুআ দুরূদ পড়ে দোয়া করার নিয়মঃ তিলাওয়াত ও দুআ দুরূদ পড়ার পর বিবলামুখী হয়ে অর্থাৎ, মাইয়েতের দিকে পিঠ করে দুআ করবে। (দেখুনঃ যাওয়াহিরুল ফিকহ্)

আয়েশা (রা.) বলেন, আমি রাসূলকে (সা.) জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল। কবরবাসীকে কী বলব? তখন তিনি বললেন, হে আয়েশা তুমি বলবে, ‘মোমিন ও মুসলমানদের বাসভূমির অধিবাসীদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমাদের মধ্যে থেকে যারা আগে আগে চলে গেছে এবং যারা পেছনে রয়েছে আল্লাহ তাদের সবার ওপর করুণা বর্ষণ করুন। ইনশাআল্লাহ আমরা তোমাদের সঙ্গে মিলিত হব। (মুসলিম)

আরবি হাদিস
وَعَنْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه، قَالَ: مَرَّ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ بِقُبُوْرٍ بِالمَدِينَةِ فَأَقْبَلَ عَلَيْهِمْ بوَجْهِهِ فَقَالََ: «السَّلَامُ عَلَيْكُمْ يَا أَهْلَ القُبُوْرِ، يَغْفِرُ اللهُ لَنا وَلَكُمْ، أَنْتُمْ سَلَفُنَا وَنَحْنُ بِالأَثَرِ» رواهُ الترمذي وقال: حديثٌ حسن.
বাংলা অনুবাদ
ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, মাদীনার কিছু সংখ্যক কবর অতিক্রম করার সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, হে কবরের অধিবাসীরা! তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক, আল্লাহ তাআলা আমাদের ও তোমাদেরকে ক্ষমা করুন। তোমরা আমাদের অগ্রগামী। আমরা তোমাদের উত্তরসূরি।’’ উপরোক্ত দোয়াগুলোর সমর্থনে কোরআনের একটি আয়াত উল্লেখ করা যায়।

আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘আর যারা তাদের পরে এসেছে এবং বলেছে, হে আমাদের রব! আমাদের ক্ষমা কর এবং আমাদের যেসব ভাই ঈমান সহকারে অতিবাহিত হয়েছে, তাদেরও ক্ষমা কর। আর মোমিনদের জন্য আমাদের মনে কোনো বিদ্বেষ সৃষ্টি করো না। হে আমাদের রব! তুমি তো ক্ষমাশীল, মমতাময়।’ (সূরা হাশর : ১০)।

জিয়ারতের দোয়া:

আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবুরি মিনাল মু'মিনীনা ওয়াল মু'মিনাতি ওয়াল মুসলিমীনা ওয়াল মুসলিমাতি ইয়াগফিরুল্লাহ লানা ওয়ালাকুম। আনতুম সালাফুল লানা ওয়া নাহনু বিল আছর।

* প্রথমে উপরোক্ত দোয়া পড়তে হয়। তারপর সুরা ফাতিহা সহ বিভিন্ন সুরা পাঠ করে আল্লার কাছে তাদের গুনাহের মাগফিরাতের জন্য দোয়া করা।

* বুজ্জরগানে ওলামায়ে কেরামগন বর্ননা করেছেন, কবরের কাছে সুরা ইয়াছিন পড়লে কবরের আযাব থেমে যায়।

১. কবরের ওপর বসা, তাতে হেলান দেয়া বা তার ওপর দিয়ে চলাচল বৈধ নয়। তবে ইবনে ওমর, আবু হানিফা ও মালেকের মতে, প্রয়োজনে তা বৈধ। (মুসলিম, আবু দাউদ ও ফিকহুম সুন্নাহ)। জাবের (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) কবর পাকা করতে, কবরের ওপর বসতে এবং কবরের ওপর কোনো নির্মাণ কাজ করতে নিষেধ করেছেন। (মুসলিম)। স্বাভাবিক কবরের চেয়ে উঁচু কবর ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। (মুসলিম)।

২. কবরকে হাত দিয়ে স্পর্শ করা, চুমু দেয়া, কবরের চারপাশে ঘোরা, মৃতের কাছে প্রার্থনা করা, তাদের নামে কসম খেয়ে দোয়া চাওয়া, মৃতের কাছে সাহায্য পেশ করা ও মনের আকুতি পেশ করা জঘন্য শিরক ও হারাম কাজ। (ফিকহুস সুন্নাহ, মাআরেফুল কোরআন)।

৩. কবরে বাতি জ্বালানো, মসজিদ নির্মাণ করা ও নামাজ আদায় করা নিষিদ্ধ। (বোখারি, মুসলিম)।

৪. কবরকে কোনো কিছু দিয়ে ঢাকা বা আবৃত করা বৈধ নয়। (বোখারি)।

৫. কবরের কাছে জন্তু জবাই করা মাকরুহ। (ফিকহুস সুন্নাহ)।

ইমাম মালেক আহমদ ও কিছু সংখ্যক হানাফি আলেম মহিলাদের কবর জিয়ারতের অনুমতি দিয়েছেন। তারা দলিল হিসেবে ইবনে মুলাইকার হাদিস পেশ করেন।

ইবনে মুলাইকা বলেন, একদিন আয়েশা (রা.) কবরস্থান থেকে এলেন। আমি বললাম, আপনি কোথা থেকে এলেন? তিনি বললেন, আমার ভাই আবদুর রহমানের কবর থেকে। আমি বললাম, রাসূল (সা.) কি কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেননি? তিনি বললেন, হ্যাঁ প্রথমে নিষেধ করেছেন, পরে আবার আদেশ দিয়েছেন। (হাকেম ও বায়হাকি)। হাফেজ জাহাবি হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন। (ফিকহুস সুন্নাহ)।

এ হাদিস থেকে জানা গেল মহিলাদের জন্য কবর জিয়ারত করা বৈধ। তাছাড়া যেহেতু আখেরাতকে স্মরণ করানোই কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্য, সেহেতু এটা নারী-পুরুষ সবার জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য ও প্রয়োজন। (ফিকহুস সুন্নাহ)।

তবে অবশ্যই এ ক্ষেত্রে পর্দার শর্ত রক্ষা করতে হবে।

আহকামে মাইয়্যেতে উল্লেখ আছে যে,
কবর জিয়ারতে ক্ষেত্রে পুরুষদের জন্য যিয়ারত করা মুস্তাহাব। নারী যুবতী হলে তার জন্য কবরস্থানে যাওয়া জায়েয নেই। তবে বৃদ্ধা হলে কান্নাকাটি, মাতম ইত্যাদি শরীআত বিরোধী কাজ করবে না- এরূপ একীন থাকলে সাজসজ্জ না করে খুশবু না মেখে পর্দার সাথে যাওয়ার অনুমতি রয়েছে।

মৃত্যুর পর মানুষের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তখন তারা বন্ধুবান্ধব ও আত্নীয়স্বজন থেকে ছওয়াব রেছানীর খুবই প্রয়োজনবোধ করে অপেক্ষা করতে থাকে। কবর যিয়ারতের সময় কতিপয় সুরা পাঠ করার বিশেষ ফজীলত হাদীস শরীফে বর্নিত আছে।

সুরা এখলাস

হযরত আলী রাঃ থেকে বর্নিত , নবী করীম সাঃ বলেন, যে ব্যক্তি কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাবার সময় ১১ বার সুরা এখলাস পাঠ করে কবরবাসীর জন্য ছওয়াব রেছানী করবে সে ঐ কবরস্থানে দাফনকৃত মৃতদের সংখ্যার সমান ছওয়াব লাভ করবে।

সুরা ফাতিহা

আলহামদুলিল্লাহি রাব্লিল আ’লামিন। আর রাহহমানির রাহিম । মালিকি ইয়াওমিদ্দিন । ইয়্যা কানা’বুদু ওয়াইয়্যা-কানাসতাঈন । ইহদিনাস সিরাত্বাল মুস্তাক্বিম । সিরাত্বাল্লাযিনা আন আ’মতা আলাইহিম । গাইরিল মাগদুবে আলাইহিম ওয়ালাদ্বদ্বো-য়াল্লিন ।

সুরা এখলাস

কুলহু আল্লাহু আহাদ। আল্লাহুসসামাদ। লাম ইয়ালিদ। ওয়ালাম ইউলাদ। ওয়ালাম ইয়া কুল্লাহু কুফু আন আহাদ।

সুরা তাকাসুর

1.أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ
2.حَتَّى زُرْتُمُ الْمَقَابِرَ
3.كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَ
4.ثُمَّ كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَ
5.كَلَّا لَوْ تَعْلَمُونَ عِلْمَ الْيَقِينِ
6.لَتَرَوُنَّ الْجَحِيمَ
7.ثُمَّ لَتَرَوُنَّهَا عَيْنَ الْيَقِينِ
8.ثُمَّ لَتُسْأَلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِيمِ

আল্হা-কুমু ত্তাকা-ছুরু, হাত্তা-যুর্তুমুল্ মাক্বা-বির।
কাল্লা-সাওফা তা’লামূনা, ছুম্মা কাল্লা-সাওফা তা’লামূন্।
কাল্লা-লাও তা’লামূনা ই’ল্মাল্ ইয়াক্বীন্।
লাতারায়ুন্নাল্ জ্বাহীমা, ছুম্মা লাতারায়ুন্নাহা-‘আইনাল্ ইয়াক্বীন।
ছুম্মা লাতুস্য়ালুন্না ইয়াওমায়িযিন্ ‘আনিন্নাঈ’ম্।

সুরা ফাতেহা ও সুরা তাকাছুরের ফজীলত

হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্নিত , নবী করীম সাঃ বলেন, যে ব্যক্তি কবরস্থানে প্রবেশ করে সুরা ফাতেহা, সুরা এখলাস ও সুরা তাকাছুর পাঠ করে বলবে হে আল্লাহ, আমি তোমার কালাম থেকে যা পাঠ করেছি, তার ছওয়াব এই কবরস্থানের মুমিন নর- নারীদের জন্য দান করলাম, কেয়ামতের দিন তারা তার জন্য সুপারিশকারী হবে।

সুরা ইয়াসিনের ফজীলত

হযরত আনাস রাঃ থেকে বর্নিত , নবী করীম সাঃ বলেন, যে ব্যক্তি কবরস্থানে প্রবেশ করে সুরা ইয়াসীন পাঠ করবে, আল্লাহতায়ালা সেই কবরস্থানের মৃতদের আজাব লাঘব করবেন এবং উক্ত ব্যাক্তি সেখানে দাফনকৃত মৃতদের সমান সংখ্যক ছওয়াব লাভ করবে। এছাড়া সুরা মূলক, আয়তুল কুরছী, সুরা ফালাক, সুরা নাস এবং কোরআন মজ়িদ যতটুকু পারা যায় তেলোয়াত করা ভাল।

প্রশ্ন ১ – কবর দৃষ্টিগোচর হলে বা কবরের দেয়াল অতিক্রম করলে কবরবাসীদেরকে সালাম করতে হবে কি?

উত্তর – পথিক হলেও সালাম দেয়া উত্তম, এরূপ ব্যক্তির যিয়ারতের নিয়ত করে নেয়া উত্তম।

প্রশ্ন ২ – যিয়ারতকারীর নির্দিষ্ট কবরের পাশে গিয়ে যিয়ারত করার হুকুম কি?

উত্তর - গোরস্থানের প্রথম কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দো‘আ করাই যথেষ্ট, তবুও যদি নির্দিষ্ট কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দো‘আ ও সালাম করতে চায় করতে পারবে।

প্রশ্ন ৩ – মৃত ব্যক্তি যিয়ারতকারীকে চিনতে পারে?

উত্তর - কতিপয় হাদিসে এসেছে যে, যিয়ারতকারী যদি এমন হয় যে দুনিয়াতে তার সাথে পরিচয় ছিল তাহলে আল্লাহ যিয়ারতকারীর সালামের উত্তর দেয়ার জন্য তার রুহ ফিরিয়ে দেন । কিন্তু এ হাদিসের সনদে কিছু ত্রুটি রয়েছে। অবশ্য আল্লামা ইবনে আব্দুল বার রাহিমাহুল্লাহ হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন।

প্রশ্ন ৪ – উম্মে আতিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত, «نهينا عن اتباع الجنائز ولم يعزم علينا» “আমাদেরকে জানাযার সাথে চলতে নিষেধ করা হয়েছে, কিন্তু কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি”। হাদিসটির ব্যাখ্যা কি?

উত্তর - আবস্থা দৃষ্টে প্রতিয়মান হচ্ছে যে, বর্ণনাকারীর মতে নিষেধটি কঠোর নয়, তবে আমাদের জেনে রাখা উচিত যে প্রত্যেক নিষেধ হারাম। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। «ما نهيتكم عنه فاجتنبوه وما أمرتكم به فأتوا منه ما استطعتم» (متفق عليه) “আমি যার থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করি, তোমরা তা পরিত্যাগ কর, আর আমি তোমাদেরকে যার আদেশ দেই, তোমরা তা সাধ্যানুসারে পালন কর”। (বুখারি ৩৯১) এ হাদিস দ্বারা প্রতিয়মান হয় যে, মহিলাদের জানাযার সাথে কবর পর্যন্ত যাওয়া হারাম, তবে পুরুষদের ন্যায় তারা জানাযায় অংশ গ্রহণ করতে পারবে।

প্রশ্ন ৫ – একটি হাদিসে আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তিকে কবরের উপর জুতা নিয়ে হাটতে দেখে বললেন, হে জুতা ওয়ালা! তোমার জুতাদ্বয় খুলে নাও। এ হাদিসের উপর কি আমল করা যাবে? জুতা নিয়ে কেউ কবরের উপর হাটা-চলা করতে চাইলে তাকে কি নিষেধ করা হবে?

উত্তর – হ্যাঁ, বর্ণিত হাদিসের উপর আমল করা যাবে, সুতরাং কোন অবস্থাতেই কবরের উপর জুতা নিয়ে হাটা-চলা করা জায়েয হবে না। হ্যাঁ, বিশেষ প্রয়োজনে যেমন কবরের উপর যদি কাঁটাদার গাছ থাকে বা মাটি অত্যন্ত গরম হয়, যে কারণে খালিপায়ে চলা অসম্ভব হয়, এমতাবস্থায় জুতা নিয়ে কবরের উপর হাঁটা যেতে পারে, এরূপ কোন বিশেষ প্রয়োজন না হলে তাকে অবশ্যই নিষেধ করা হবে, যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। তাকে শরি‘আতের হুকুম জানিয়ে দেবে।

প্রশ্ন ৬ – গোরস্থানে প্রবেশকালে জুতা খুলার বিধান কি?

উত্তর - কবরের উপর দিয়ে হেঁটে গেলে জুতা অবশ্যই খুলতে হবে, আর যদি কবরের উপর দিয়ে না হেটে গোরস্থানের প্রথম কবরের পাশে দাঁড়িয়ে সালাম দেয়, তা হলে জুতা খুলতে হবে না।

প্রশ্ন ৭ – জনৈক মহিলাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কবরের পাশে ক্রন্দরত আবস্থায় দেখে বলেছিলেন, «اتقي الله واصبري» “আল্লাহকে ভয়কর ও ধৈর্যধারণ কর”। (বুখারি ও মুসলিম) এ হাদিস কি মহিলাদের কবর যিয়ারত বৈধ প্রমাণ করে না?

উত্তর - সম্ভবত উল্লিখিত ঘটনাটি নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্য কবর যিয়ারত বৈধ থাকাকালিন সময়ের ঘটনা। আর মহিলাদের জন্য কবর যিয়ারত নিষিদ্ধকারী হাদিস এ হাদিসের জন্যে নাসেখ বা এ হাদিসকে রহিতকারী।

প্রশ্ন ৮ – কিছু কিছু শহরে অনেক মানুষ কববের উপর ঘর তৈরি করে সেখানে বসবাস করে। এটা কতটুকু শরিয়ত সম্মত?

উত্তর – এটা নেহায়েত গর্হিত ও নিন্দনীয় কাজ, এ কাজের দ্বারা কবরবাসীদের অপমান করা হয়, তাই তাদেরকে এ কাজ হতে বারণ করা এবং শরি‘আতের বিধান সম্পর্কে অবহিত করা জরুরী। তারা এসব কবরের উপর যেসব সালাত আদায় করেছে, তা সব বাতিল ও বৃথা। এ অবস্থায় কবরের উপর বসাও অত্যন্ত গর্হিত কাজ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লাম বলেছেন, « لا تصلوا إلى القبور ولا تجلسوا عليها » (رواه مسلم) “কবরের দিকে মুখ করে নামাজ পড়বে না এবং কবরের উপর বসবে না”। (মুসলিম ২১২২) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়াসাল্লম আরো বলেছেন, «لعن الله اليهود والنصارى اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد» (رواه البخاري) “আল্লাহ ইয়াহূদী ও নাসারাদের উপর লানত করেছেন, কারণ তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছে”। (মুসলিম ১০৭৯) এ হাদিস সম্পর্কে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বাণী দ্বারা তাদেরকে তাদের গর্হিত কাজের জন্য সতর্ক করেছেন।

প্রশ্ন ৯ – জনৈক ব্যক্তির কবরের উপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হল, আর ঐ ব্রিজের উপর দিয়ে একটি যাত্রিবাহী গাড়ি যাওয়ার সময় বিরত দিল, যাত্রীদের মাঝে একজন মহিলাও রয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে গাড়িটির যাত্রা বিরতির কারণে সে মহিলা কি কবর যিয়ারতকারীদের অন্তর্ভূক্ত হবে, সে মহিলা কি কবরবাসীদের সালাম করবে?

উত্তর – না, মহিলা কবর যিয়ারতকারীদের অন্তর্ভূক্ত হবে না, ব্রিজ কেন কবরের পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেও কবর যিয়ারতকারী বলে গণ্য হবে না। মহিলা যদি পথচারী হয়, তবুও তার পক্ষে কবরবাসীদের সালাম না করা উত্তম।

প্রশ্ন ১০ – একটি হাদিস প্রচলিত আছে, « اذا مررتم بقبر كافر فبشروه بالنار » “যখন তোমরা কোন কাফেরের কবরের পাশ দিয়ে যাও, তখন তাকে জাহান্নামের সুসংবাদ দাও”। এ হাদিসটি কতটুকু শুদ্ধ?

উত্তর - আমার জানা মতে এ হাদিসের বিশুদ্ধ কোন সনদ নেই।

প্রশ্ন ১১- মহিলারা কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কবরবাসীদের সালাম দেবে কি?

উত্তর - আমার জানা মতে কবরবাসীদেরকে মহিলাদের সালাম না-করা উচিৎ। কারণ সালাম বিনিময় কবর যিয়ারতের রাস্তা উম্মুক্ত করবে, দ্বিতীয়ত সালাম দেয়া কবর জিয়ারতের অন্তর্ভুক্ত। তাই মহিলাদের উপর ওয়াজি হচ্ছে সালাম বর্জন করা, তারা যিয়ারত ব্যতীত মৃতদের জন্য শুধু দো‘আ করবে।

প্রশ্ন ১২ – রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর জিয়ারতের নিয়ম কি?

উত্তর - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর জিয়ারতের সুন্নত তরিকা এই যে, কবরের দিকে মুখ করে সালাম দেবে, অতঃপর তাঁর দু’সাথী আবু-বকর ও ওমরকে সালাম দেবে, অতঃপর ইচ্ছা করলে অন্য জায়গায় গিয়ে কিবলামুখী হয়ে নিজের জন্য দো‘আ করবে।

প্রশ্ন ১৩ – মহিলাগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর যিয়ারত করতে পারবে কি?

উত্তর - মহিলাদের জন্য কবর যিয়ারত করা নিষেধ, যেসব হাদিসে মহিলাদের কবর যিয়ারত থেকে বারণ করা হয়েছে, সেখানে রাসূলের কবরও অন্তর্ভুক্ত, তাই তাদের জন্য জরুরী হচ্ছে রাসূলের কবর যিয়ারত না-করা। মহিলাদের জন্য রাসূলের কবর যিয়ারত বৈধ না অবৈধ এ সম্পর্কে ওলামায়ে কেরাম দু’ভাগে বিভক্ত, তাই সুন্নতের অনুসরণ ও মতানৈক্য থেকে বাঁচার জন্য মহিলাদের জন্য যে কোন কবর যিয়ারত ছেড়ে দেয়াই শ্রেয়। তা ছাড়া মহিলাদের জন্য কবর যিয়ারত নিষেধ সংক্রান্ত হাদিসে রাসূলের কবরকে বাদ দেয়া হয়নি। এমতাবস্থায় হাদিসের ব্যাপকতার উপর আমল করাই ওয়াজিব, যতক্ষণ না এর বিপরীত কোন সহিহ হাদিস পাওয়া যায়।

প্রশ্ন ১৪ – মসজিদে প্রবেশকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর যিয়ারত করতে পারবে কি?

উত্তর - মসজিদে প্রবেশকালে রাসূলকে শুধু সালাম করবে, শুধু কবর জিয়াতর উদ্দেশ্যে যাবে না, তবে মাঝে-সাজে যেতে পারে।

প্রশ্ন ১৫ – রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা কি জায়েয?

উত্তর - মসজিদে নববি জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা জায়েয। তাই মসজিদে নববির যিয়ারত মূল উদ্দেশ্য করে সফর করবে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয় হিসেবে নবীর কবর যিয়ারত করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, «لاتشد الرحال إلا إلى ثلاثة مساجد: المسجد الحرام ومسجدي هذا والمسجد الاقصى» (رواه البخاري) “তিন মসজিদ ব্যতীত অন্য কোথাও সফর করা যাবে নাঃ মাসজিদে হারাম, আমার এ মসজিদ ও মসজিদে আকসা”। (বুখারি ২৮১)

প্রশ্ন ১৬ – কবর জিয়ারতের জন্য জুমার দিনকে নির্দিষ্ট করা কেমন?

উত্তর - এর কোন ভিত্তি নেই। যিয়ারতকারী সুযোগ বুঝে যখন ইচ্ছা যিয়ারত করবে। জিয়ারতের জন্য কোন দিন বা রাতকে নির্ধারিত করা বিদ‘আত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, «من احدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد» (متفق عليه) “আমাদের এ দ্বীনে যে কেউ নতুন কিছু আবিষ্কার করল, তা পরিত্যক্ত”। (বুখারি ৮৬১) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন, «من عمل عملا ليس عيه أمرنا فهو رد» (رواه مسلم) “যে এমন কোন কাজ করল যা আমাদের আদর্শ নয়, তা পরিত্যক্ত”।হাদিসটি ইমাম মুসলিম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

প্রশ্ন ১৭ – মহিলাদের জন্য কবর যিয়ারত নিষেধ হওয়া সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে কিভাবে কবর জিয়ারতের দো‘আ শিক্ষা দিয়েছেন?

উত্তর - কবর যিয়ারত প্রথমে সবার জন্য নিষেধ ছিল, অতঃপর সবার জন্য জায়েয হয়, অতঃপর শুধু মহিলাদের জন্য নিষেধ হয়। এ ব্যাখ্যার পরিপেক্ষিতে বলা যায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আহাকে কবর জিয়ারতের আদব তখন শিক্ষা দিয়েছিলেন যখন তা সবার জন্য জায়েয ছিল।

প্রশ্ন ১৮ – কবরের পাশে দো‘আ কি দু’হাত তুলে করতে হবে?

উত্তর - কবরের পাশে দু’হাত তুলে দো‘আ করা জায়েয আছে, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর যিয়ারত করে কবরবাসীদের জন্য দু’হাত তুলে দো‘আ করেছেন। (মুসলিম)

প্রশ্ন ১৯ – কবরের পাশে সম্মিলিত দোয়ার কি হুকুম?

উত্তর - কাউকে দো‘আ করতে দেখে শ্রোতাদের আমিন আমিন বলায় কোন বাঁধা নেই। তবে পরিকল্পিতভাবে সম্মিলিত দো‘আ করা যাবে না। অকস্মাৎ কাউকে দো‘আ করতে দেখে তার সাথে সাথে আমিন আমিন বলা যাবে, কারণ এটাকে সম্মিলিত দো‘আ বলা হয় না।

প্রশ্ন ২০ – গোরস্থানের প্রথমাংশে সালাম দিলে সমস্ত কবরবাসীর জন্য সালাম বিবেচ্য হবে?

উত্তর – এ সালামই যথেষ্ট, সে ইনশাল্লাহ জিয়ারতের সাওয়াব পেয়ে যাবে। যদি গোরস্থান অনেক বড় হয় আর সে ঘুরে ঘুরে সব দিক দিয়ে সালাম বিনিময় করতে চায় তাও করতে পারবে।

প্রশ্ন ২১ – অমুসলিমের কবর যিয়ারত করা কি জায়েয?

উত্তর – শিক্ষা গ্রহণের জন্য হলে অমুসলিমের কবর যিয়ারত করা জায়েয। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মায়ের কবর যিয়ারত করে তাঁর জন্যে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনার অনুমতি চেয়ে ছিলেন, কিন্তু তাঁকে এ বিষয়ে অনুমতি দেয়া হয়নি। শুধু জিয়ারতের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

প্রশ্ন ২২ – দু’ঈদের দিনকে কবর জিয়ারতের জন্য নির্দিষ্ট করার কোন ভিত্তি আছে কি?

উত্তর - আমার জানামতে এর কোন ভিত্তি নেই, যিয়ারতকারীর যখন সুযোগ হবে তখন সে যিয়ারত করবে, এটাই সুন্নত।

প্রশ্ন ২৩ – মৃতের জন্য দো‘আ করার সময় কবর মুখী হয়ে দো‘আ করা কি নিষেধ?

উত্তর – না, নিষেধ নয়, মৃতের জন্য দো‘আ করার সময় কেবলামুখী ও কবরমুখী উভয় বৈধ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তির দাফন শেষে বললেন, «استغفروا لأخيكم واسألوا له التثبيت فإنه الآن يسأل» (رواه أبوداود) “তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রর্থনা কর এবং তার ইস্তেকামাতের দো‘আ কর, কেননা তাকে এখন প্রশ্ন করা হবে”। এখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলেননি যে, কিবলামুখী হয়ে দো‘আ কর। সুতরাং কিবলামুখী হয়ে দো‘আ করুক আর কবরমুখী হয়ে দো‘আ করুক উভয়ই জায়েয। রাসূলের সাহাবিগণ কবরের চতুর্পাশে দাঁড়িয়ে মৃতের জন্য দো‘আ করতেন।

প্রশ্ন ২৪- দু’হাত তুলে মৃতের জন্য দো‘আ করা কি জায়েয?

উত্তর - কিছু কিছু হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কবর যিয়ারত করে দো‘আ করতেন তখন দু’হাত তুলেই দো‘আ করতেন। যেমন ইমাম মুসলিম রাহিমাহুল্লাহ উম্মুল মুমিনিন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর যিয়ারত করে তাদের জন্য দো‘আ করার সময় দু’হাত তুলেছেন।

প্রশ্ন ২৫ – আমাদের এখানে কিছু সৎকর্মী যুবক বাস করে, তারা নিজেদের সাথে কতক গাফেল লোকদেরকে কবর জিয়ারতের জন্য নিয়ে যেতে চায়, হয়ত তাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় সঞ্চার হবে। এ ব্যাপারে আপনাদের মত কি?

উত্তর - এটা একটি মহৎ কাজ, এতে কোন বাঁধা নেই। এটা ভাল কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করার অন্তর্ভূক্ত। আল্লাহ তাদেরকে উত্তম বিনিময় দান করুন।

প্রশ্ন ২৬ – কবরের উপর কোন চিহ্ন স্থাপন করার হুকুম কি?

উত্তর - লিখা বা নাম্বারিং করা ব্যতীত শুধু পরিচয়ের জন্য কবরের উপর চিহ্ন স্থাপন করা যেতে পারে। বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরের উপর কিছু লিখতে নিষেধ করেছেন, আর নাম্বারিং করাও লিখার অন্তর্ভূক্ত। তবে কবরস্থ লোকের পরিচয়ের জন্য শুধু পাথর ইত্যাদি রাখা যাবে, কালো বা হলুদ রঙের পাথরও রাখা যাবে। বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবি উসমান ইবন মাজউন রাদিয়াল্লাহু আনহুর কবরের উপর চিহ্ন স্থাপন করেছিলেন।

উত্তর দিয়েছেনঃ শায়খ আব্দুল আযীয ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইব্‌ন বায রাহিমাহুল্লাহ

একশতটি কবীরা গুনাহ

1. আল্লাহর সাথে শিরক করা 2. নামায পরিত্যাগ কর 3. পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া 4. অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করা 5. পিতা-মাতাকে অভিসম্পাত করা 6. যাদু-টোনা করা 7. এতীমের সম্পদ আত্মসাৎ করা 8. জিহাদের ময়দানথেকে থেকে পলায়ন 9. সতী-সাধ্বী মু‘মিন নারীরপ্রতি অপবাদ 10. রোযা না রাখা

সম্পূর্ণ পড়ুন