????????

যাকাত

হজ্জ

হজ্ব ইসলামের ৪র্থ রুকন।। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পবিত্র হজ্ব পালনে বেশকিছু ধারাবাহিক নিয়ম পালন করতে হবে। আর এই সম্পর্কে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহম্মাদুর রাসুলুল্লহি সল্লেল্লাহু আলাইহিস সালাম ইরশাদ করেছেন। নিন্মে এগুলো দেয়া হলো।।

আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কা'বায় তাওয়াফ
৯ই জিলহজ্জ তারিখে আরাফাত ময়দানে উপস্থিত থাকা,নির্দিষ্ট স্থানে আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশিত অনুষ্ঠান পালন করা
সুস্থ,আর্থিক সমর্থ প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিম নরনারীর জন্য জীবনে অন্তত একবার হজ্জ করা ফরজ
যার ওপর হজ্জ ফরজ, সে যদি হজ্জ না করে তবে তার জন্য ভীষণ আজাবের সংবাদ দেয়া হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন যে, একজন হাজি কবীরা গুনাহ এবং অন্যান্য সব গুনাহ হতে পবিত্র হবে
হজ্জ ও উমরাহ গুনাহ সমূহ কে এমন ভাবে দূর করে যেমন আগুন লোহার মরিচাকে দূর করে
নবীপাক (সঃ) এরশাদ করেন, যিনি হজ্জ করেন তিনি কখনো দরিদ্র হন না (মুসলিম শরীফ)
রিয়াল,ডলার ও টাকা,টাকা রাখার বেল্ট বা বুকে রাখারমত থলে,সেন্ডেল ও পাথরের ব্যাগ,এগুলোর সবকটী একটি করে নিবেন। টয়লেট টিস্যু, হজ্বের বই ,মোবাইল ফোন, এজেন্সির প্রতিনিধির সৌদি মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা।গন্ধবিহীন ভেসলিন। Unilever কোম্পানির একটি গন্ধবিহীন ভেসলিন সবখানেই পাবেন।
কাঁধে ঝুলিয়ে নেয়া যায় এমন মোটা কাপড়ের ব্যাগ একটি,মাঝারি আকারের ব্যাগ বা হালকা চাকা ওয়ালা স্যুটকেস একটী।শুকনো খাবার- খেজুর, বিস্কুট, চিড়া ভাজা, ইত্যাদি + পানির বোতল।ছাতা, চাদর [বিছানার+গায়ে দেবার],গামছা/পাতলা তোয়ালে- ২টি,অতিরিক্ত ১ জোড়া চপ্পল
এহরামের কাপড় ২সেট,সার্ট,টূপি,জাঙ্গিয়া ও গেঞ্জি ২টি করে,পায়জামা পাঞ্জাবী ৪-৫টি
স্পঞ্জের ২ফিতা ওয়ালা সেন্ডেল ১জোড়া,চামড়ার সাধারণ সেন্ডেল এক জোড়া।
লুঙ্গি,গামছা,সিঙ্গেল বিছানার চাদর,গরম চাদর,হাওয়ার বালিশ,ছোট আয়না,চিরুণী,ছোট কাঁচি ,ছোট ভাজকরা চাকু।
নেইল কাটার,ব্লেড,সুই সুতা,রেজার,ক্রিম,টুথপেস্ট,ব্রাশ,লিপজেল,মেলামাইন মগ,বাসন,টিস্যুপেপার,নোট বই,কলম,মোবাইল ইন্ডেক্স, নাইলনের সুতলি ৩০হাত পরিমান
ডিটারজেন্ট আধাকেজি,চিড়া আধাকেজি,চিনি ২৫০গ্রাম,লবণ ২০০গ্রাম, তালাচাবি,জরুরী ঔষুধ,অজিফা শরীফ,মার্কার ২টি দুই রঙ্গের,মোবাইল একটি।
হজ্জ এর প্রকারভেদ
প্রথম প্রকার হজ্জে ইফরাদ
বর্ণনা: ওমরাহ্ ব্যতিত শুধু হজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা এবং হজ্জের সাথে ওমরাহকে না মিলানো। (বদলী হজ্জের জন্যও এই হজ্জ)।
নিয়্যাত: আল্লাহুমা ইন্নী উরীদুল হাজ্জা ফায়াসছির হুলিওয়াতা কাব্বালহুমিনি্ন। (বাংলা নিয়ত- আল্লাহ আমি ইফরাদ হজ্জের উদ্দেশ্যে আপনার সন্তুষ্টির জন্য ইহরাম বাধলাম। তা সহজ করে দিন ও কবুল করে নিন)।
দ্বিতীয় প্রকার হজ্জে কি্বরান
বর্ণনা: একত্রে একই স্থান থেকে হজ্জ ও ওমরার নিয়্যাত করে হজ্জের সাথে ওমরাহকে মিলানো এবং একই ইহ্রামে উভয়টি আদায় করা।
নিয়্যাত: আল্লাহুমা ইন্নী উরীদুল উ'মরাতা ফায়াচ্ছির লী-ওয়াতাক্াব্বাল মিন্নী। বাংলা নিয়ত- হে আল্লাহ আমি আপনার উদ্দেশ্যে হজ্জে কি্বরানের জন্য ইহরাম বাধলাম তা সহজ করে দিন ও কবুল করে নিন।
তৃতীয় প্রকার হজ্জে তামাত্তু
বর্ণনা: একই সফরে পৃথক পৃথক ভাবে 'ইহরাম' পরিধান করে 'হজ্জ ও ওমরাহ' আদায় করা। প্রথম ইহ্রামে ওমরাহর নিয়্যাত করে তা পালন শেষে চুল কেটে 'ইহরাম' খুলে হালাল হয়ে দ্বিতীয় বার নতুন করে হজ্জের নিয়্যাতে ৮ই জিলহজ্জ 'মক্ক শরীফ' থেকে হজ্জের জন্য ইহরাম বাধা। তামাত্তু করার ইচ্ছা থাকলে প্রথমে ওমরার নিয়্যাত করে এহরাম বাঁধুন।
শুধু ওমরাহর নিয়্যাত
আল্লাহুমা ইন্নী উরীদুল উম'রাতা ফায়াচ্ছির লী-ওয়াতাক্াব্বাল মিন্নী। বাংলা নিয়ত- হে আল্লাহ আমি ওমরাহ্ পালনের জন্য ইহরাম বাধলাম তা সহজ করে দিন এবং কবুল করে নিন।
শুধু হজ্জের নিয়্যাত
আল্লাহুম্মা ইন্নী উরীদুল হাজ্জা ফায়াচ্ছিরহু-লী অ-তাকাব্বালহু মিন্নী। বাংলা নিয়ত- হে আল্লাহ আমি পবিত্র হজ্জ পালনের জন্য ইহরাম বেধে নিয়ত করলাম তা সহজ করে দিন এবং কবুল করে নিন।
হজ্জের ফরজ ৩টি
মিকাত হতে এহরাম বাঁধা
৯ই জিলহজ্জ যোহরের পর হতে আরাফাত ময়দানে অবস্থান করা
১০ বা ১১ বা ১২ জিলহজ্জ আল্লাহর ঘর তাওয়াফ করা
হজ্জ এর ওয়াজিব ৬টি
৯ই জিলহজ্জ রাত্রে মুজদালিফায় অবস্থান করা
'সাফা ও মারওয়া' পাহাড় দ্বয়ের মাঝে ৭ বার সায়ী করা। (সায়ীর বিস্তারিত অন্য মেন্যুতে বলা হয়েছে)
মিনায় শয়তানকে লক্ষ করে ৪৯টি কংকর নিক্ষেপ করা
হজ্জে কোরবাণী করা
এহরাম খোলার পূর্বে মাথার চুল মুন্ডানো বা ছাটা।
মক্কার বাইরের লোকদের জন্য তাওয়াফে বিদা অর্থাৎ মক্কা থেকে বিদায়কালীন তাওয়াফ করা।
হজ্জ এর সুন্নত সমূহ
ইফরাদ ও ক্বেরান হাজিগনের জন্য সর্বপ্রথম তাওয়াফ করা
তাওয়াফে কুদুম ও তাওয়াফে জিয়ারতে রমল করা
তিন জায়গায় খুৎবা শুনা,৭ জিলহজ্জ মক্কা শরীফে হেরেম এলাকায়,৯জিলহজ্জ আরাফাতের ময়দানে মসজিদে নামিরায়,এবং ১১জিলহজ্জ মিনায়
৮জিলহজ্জ যোহর,আসর,মাগরিব এশা এবং ৯জিলহজ্জ ফজরের নামাহ এই পাছ ওয়াক্ত নামাজ মিনায় আদায় করা ও সেখানে রাত্রি যাপন করা।
৯জিলহজ্জ ফজরের নামাজের পর মিনা হতে আরাফায় গমন করা
আরাফায় গোসল করা
আরাফায় ময়দান হতে সূর্যাস্তের পর মুসদালেফায় রওয়ানা হওয়া
জিলহজ্জের ১০,১১,১২ তারিখ মিনায় রাত্রি যাপন করা
পুরুষ ও মহিলাদের হজ্জ এর বিধান একই তবে মহিলাদের ক্ষেত্রে কিছু কিছু ব্যাতিক্রম রয়েছে সেগুলি হলোঃ
স্বামী বা যার সাথে বিবাহ হারাম, এমন মাহরামের সাথে হজ্জ করতে হবে
মহিলাগন সেলাইযুক্ত কাপড় পরিধান করতে পারবেন,সর্বাবস্থায় মাথা ঢেকে রাখবেন কিন্তু এহরাম অবস্থায় মুখ ঢাকা নিষেদ
তাওয়াফের সময় রমল ও ইসতেবা করতে হবে না,সায়ী করার সময় সবুজ বাতি দুটীর মধ্যবর্তী স্থানে স্বাভাবিক গতিতে চলবেন
সাফা এবং মারওয়া পাহাড়ের উপরে উঠা জরুরী নয়
মহিলাগণ নিন্মস্বরে তালবিয়া পাঠ করবেন,সুবিধামত জুতা বা সেন্ডেল,পায়ের ও হাতের মোজা অলংকারাদি ব্যবহার করতে পারবেন
পুরুষদের সাথে ভীড়ের মধ্যে হাজরে আসওয়াদে চুম্বন করতে যাওয়া ঠিক নয়,রাতে সুবিধামত সময়ে বা যখন ভীড় কম থাকে তখন হাজরে আসওয়াদে চুম্বন করতে যেতে পারেন, অন্যথায় ইশারায় দূর থেকে চুম্বন করাই যথেষ্ট
ভীড়ের মধ্যে মাকামে ইব্রাহীমের পাশে নামাজ পড়বেন না, একটূ দূড়ে বাবু নিসা বা মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে নামেজ আদায় করবেন
এহরাম খোলার সময় মহিলাদের সমস্ত চুলের ঝুটি ধরে অগ্রভাগ এক ইঞ্চির মতো কেটে দিলেই কসর আদায় হবে।
হায়েজ ও নেফাস অবস্থায় মিনায়, আরাফায় এবং মুজদালেফায় অবস্থান করতে পারেন। হায়েজ ও নেফাজ অবস্থায় বিদায়ী তাওয়াফ করতে হবে না, বিদায়ী তাওয়াফ ছাড়াই দেশে বা মদিনায় রওনা হতে পারবেন।
সূর্যাস্তের পরও মহিলাদের জন্য শয়তানকে কংকর মারা যায়েজ,মহিলাগন পুরুষের সাথে একই কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন, এরুপ করা ঠিক নয়,তবে মহিলারা আলাদা হয়ে পিছনে বা পাশে সারি করে জামাতে শরীক হবেন
মহিলাগণ তাওয়াফ ও সায়ী করার সময় অত্যান্ত সতর্কতা অবলম্বন করবেন
ওমরাহ হজ্জ এর ফরজ দুইটি
১. ইহরাম বাঁধা
২. কাবা ঘরের তাওয়াফ করা
ওমরাহ হজ্জ এর ওয়াজিব তিনটি
১. মীকাতের বাহিরে অবস্থানকারী ব্যক্তি মীকাত বা তার পূর্বে থেকে ইহরাম করা
২. সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝখানে সায়ী করা
৩. মাথা মুন্ডন বা চুল ছাঁটা
কিছু বিধি নিষেদ
ইহরাম বাধার পূর্বে নখ কেটে, বগল ও নাভীর নিচে ক্ষৌরকর্ম সম্পন্ন করে গোসল করে নিন। গোসল সম্ভব না হলে অযু করুন। সুগন্ধি থাকলে ব্যবহার করা ভালো। মীকাত, অর্থাৎ ইহরাম বাধার নির্ধারিত স্থান হতে ওমরাহ নিয়তে ইহরাম বাধতে হবে। ইহরামের জন্য সেলাইবিহীন দুটি কাপড় ও একটী লুঙ্গির ন্যায় এবং অপরটি চাদরের ন্যায় পরতে হবে। কাপড়ের রঙ সাদা হওয়া ভালো। মহিলাদের জন্য সাধারণ পোশাক পরতে হবে। তবে মুখ ও হাত খোলা রাখতে হবে।
যারা সরাসরি মক্কায় যাবেন তারা বিমানে উঠার আগেই এহরামের কাপড় পরে নিন কিন্তু নিয়ত বা তালবিয়া পড়বেন না। জেদ্দা বিমানবন্দরে পৌছার কিছু পূর্বে যখন মিকাতের ঘোষনা দিবে তখন মুখে বলুন,
"লাব্বাইকা আল্লহুম্মা ওমরাতান"-- অর্থ হলো, "হে আল্লাহ আমি ওমরাহর উদ্দেশ্যে তোমার নিকট উপস্থিত" মনে মনে ওমরাহর সংকল্প করুন। এরপর থেকেই তালবিয়া পড়ুন।
করনীয় কাজ
আপনি যদি তামাত্তু হাজি হন তাহলে ৮ই জিলহজ্জের পূর্বে আপনাকে এই কাজগুলো করতে হবে। প্রয়োজনীয় সাফাই এবং অজু গোসলের পর এহরামের কাপড় পরুন। মহিলারা চেহারা হাতের কবজি ও পায়ের পাতা ছাড়া সমস্ত শরীর ঢেকে রাখুন এবং মাথায় ছোট রুমাল বেধে নিন।
টূপি মাথায় দিয়ে এহরামের নিয়তে দু রাকাত নামাজ পড়ূন।
নিয়্যতঃ "নাওয়াইতুয়্যান উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা'আলা, রাকাতায় সালাতিল এহরাম,সুন্নত রাসূলিল্লাহি তা'আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা'বাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার"
প্রথম রাকাতে সূরা কাফেরুন ও দ্বিতিয় রাকাতে সূরা এখলাছ পড়ুন। সালাম ফিরিয়ে এবার টুপি খুলে এভাবেই বসে ওমরাহের নিয়ত করুন।
ওমরাহ এর নিয়্যতঃ "হে আল্লাহ আমি ওমরাহ করার নিয়ত করছি, আমার জন্য তা সহজ করে দাও এবং কবুল করে নাও"
এবার অনুচ্চ কন্ঠে, আর মহিলারা ফিসফিস শব্দে তিনবার তালবিয়া পড়ূন।
তালবিয়াঃ "লাব্বাইকা আল্লহুম্মা লাব্বাইক,লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নিমাতা লাকাওয়াল মুলক,লা শারিকা লাক"
অর্থঃ আমি হাজির হয়ে গেছি, হে আল্লাহ। আমি হাজির হয়ে গেছি। আমি হাজির , তোমার কোন শরীক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা এবং নেয়ামত তোমারই,সার্বভৌমত্ব ও তোমার, তোমার কোণ শরীক নেই।

ধাপ-১

মসজিদে হারামে ঢুকেই দু'রাকাত শুকরিয়া হিসেবে নফল নামাজ পড়ে নিন। পরে সামনে এগুলেই যখন কালা গিলাফে ঢাকা কাবা শরীফ নজরে পড়বে তখনই তিনবার বলুন,
"আল্লহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু"
এবং দু হাতে ইশারায় চুমু খান। সাথে সাথে দাঁড়িয়ে মোনাজাত করুন,দোয়া কবুলের এটি একটী অনন্য মুহুর্ত। দোয়া বাদ তালবিয়া পড়তে পড়োতে কাবা শরীফের ডান দিকে সবুজবাতির কাছ পর্যন্ত যান।

ধাপ-২

হজরে আসওয়াদের বরাবর মোটা খয়েরী দাগের একটূ আগে বা সবুজবাতীর নিচে এসে তালবিয়া পড়া বন্ধ করে দিন। এজতেবা করুন অর্থাৎ আপনার চাদরের ডান অংশকে ডান বগলের নিচে দিয়ে নিয়ে বাম কাঁধের উপর রাখুন। মহিলারা এজতেবা করবেন না। এবার তাওয়াফের নিয়ত করুনঃ
আরবীঃ আল্লাহুম্মা ইন্নী উরীদুল হাজ্জা ফায়াচ্ছিরহু-লী অ-তাকাব্বালহু মিন্নী।
বাংলায়ঃ "হে আল্লাহ, আমি তোমার পবিত্র ঘর তাওয়াফের নিয়ত করছি,আমার জন্য তা সহজ করে দাও এবং আমা হতে সেই সাতপাক তাওয়াফ কবুল করে নাও"

ধাপ-৩

এবার মোটা খয়েরী দাগের উপর পা দিয়ে কাবার দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে এই দোয়া পড়তে পড়তে দুহাত কান পর্যন্ত তুলুন আর মহিলারা বুক পর্যন্ত তুলুনঃ
"বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ"
হাত নামিয়ে এনে হজরে আসওয়াদে চুমু খান , বেশী ভীড় থাকলে ইশারায় হাতের তালু দিয়ে হজরে আসওয়াদ স্পর্শ করে হাতের তালুতে চুমু খান।

ধাপ-৪

এবার ডান দিকে ঘুরে তাওয়াফ শুরু করুন। প্রথম তিন চক্করে রমল করুন অর্থাৎ বীরের ন্যায় বুক ফুলিয়ে ঈষৎ দ্রুত গতিতে চলুন। মহিলারা রমল করবেন না। তাওয়াফ হাতিমের বাইরে দিয়ে করুন কারন হাতীম কাবা'রই অংশ। তাওয়াফ করা কালীন বুক পিঠ কিছুতেই কাবার দিকে দেবেন না, দৃষ্টি মাটিতে রাখুন। আর এ অবস্থায় নিচের দোয়াটি পড়তে থাকুন এবং আরো যা যা দোয়া কালাম পড়তে ইচ্ছে হয় পড়ূন। দোয়াটি হলোঃ
"লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু, ওয়ালাহুল হামদু, ওয়াহুয়া আলাকুল্লি শাইয়্যিন ক্বাদির"
এ দোয়া পড়োতে পড়তে রোকনে ইয়ামানী পর্যন্ত আসুন, অন্যদের দেখাদেখি রোকনে ইয়ামানীতে চুমু খাবেন না।।

ধাপ-৫

রোকনে ইয়ামানী হতে মোটা খয়েরী দাগ বা সবুজ বাতীর আগ পর্যন্ত এ দোয়াটি পড়োতে থাকুনঃ
"রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাছানাতাও ওয়াফিল আখিরাতি হাছানাতাও ওয়াক্বিনা আজাবান্নার। ওয়াআদ খিলনাল জান্নাতা মা'আল আববার, ইয়া আজিজু ইয়া গাফফার, ইয়া রাব্বাল আলামিন"
এখন এক চক্কর হলো।

ধাপ-৬

এবার মোটা খয়েরী দাগের উপর পা দিয়ে কাবাঘরের দিকে ফিরে সোজা হয়ে ঃ
"বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ" - বলতে বলতে তিনবার ইশারায় চুমু খেয়ে সাথে সাথে দ্বিতীয় চক্কর শুরু করে আগের মতই শেষ করুন। মনে রাখবেন সাত চক্কর তাওয়াফ করাকালীন শুধু মোটা খয়েরী দাগের উপর দাঁড়ানো অবস্থায়ই হজরে আসওয়াদ তথা কাবার দিকে মুখ ও বুক দেয়া যাবে অন্য সময় নয়। আর এভাবেই সাত চক্কর তাওয়াফ পূর্ন করুন।

ধাপ-৭

সাত চক্কর শেষ করে ইশারায় অষ্টম চুমুটি খেয়ে মাকামে ইব্রাহিমের পিছনে বা মাতাফের যে কোণ স্থানে দু রাকায়াত সালাতিত তাওয়াফ নামাজ পড়ূন। এ নামাজ ওয়াজিব। নামাজের নিয়তঃ
"নাওয়াইতুয়ান উসাল্লিয়া লিল্লাহি তায়ালা রাকাতায় সালাতিত তাওয়াফ, ওয়াজিবুল্লাহি তায়ালা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার"
প্রথম রাকাতে সূরা কাফিরুন এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা এখলাছ পড়ূন। এখন তাওয়াফ শেষ হলো।

ধাপ-৮

এবার জমঝম কূয়ার কাছে যান, পেট ভরে পানি পান করুন। পানি পান করার সময় এ দোয়াটি পড়ুনঃ
"হে আল্লাহ ! আমি তোমার নিকট উপকারি জ্ঞান, প্রশস্ত রিজিক,নেক আমল এবং সমস্ত বিমারি হতে আরোগ্য প্রার্থনা করছি"
জমজম কূয়ার পানি খেয়ে সিড়ী দিয়ে উপরে উঠে হজরে আসওয়াদ বরাবর দাঁড়িয়ে,
"বিসমিল্লাহি আল্লহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ" --বলে হজরে আসওয়াদকে ইশারায় নবম চুমু খান।

ধাপ-৯

এবার সায়ী করার জন্য সাফা পাহাড়ের দিকে অগ্রসর হোন, পাহাড়ের চিহ্নসরুপ কিছুটা উচু চূড়া আছে, চূড়ায় যাবেন না। একটূ উপরে উঠে ক্বাবার দিকে মুখ করে হাত তুলে তিনবার বলুন,
"আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাহু" মন মত দোয়া করুন,
পরে ডান দিকে সরে গিয়ে মারওয়া পাহাড়ের দিকে মুখ্ করে দাঁড়িয়ে সায়ী শুরু করার নিয়্যত করুন।
নিয়্যতঃ "হে আল্লাহ আমি তোমার জন্য সাফা মারওয়ার সায়ী সাত চক্করের মাধ্যমে আদায় করার নিয়ত করছি, আমার জন্য ইহা সহজ করে দাও এবং কবুল করে নাও"

ধাপ-১০

স্বাভাবিক গতিতে মারওয়া পাহাড়ের দিকে অগ্রসর হবেন। সবুজ বাতি ও সবুজ খাম্ভাদ্বয়ের মাঝখানের জায়গাটি শুধু পুরুষেরা দ্রুত গতিতে পার হোণ। এরপর স্বাভাবিক গতিতে চলুন, আর এই অবস্থায় এই দোয়াটি পড়ূনঃ
"লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলাকুল্লি শাইয়্যিন ক্বাদির"

ধাপ-১১

মারওয়া পাহাড়ের সামান্য উপরে উঠে কাবা শরীফের দিকে মুখ করে থেমে যান। যদিও ক্বাবা শরীফ নজরে পড়েনা। এবার সাফা পাহাড়ের অনুরুপভাবে ক্বাবার দিকে মুখ করে হাত তুলুন আর তিনবার বলুনঃ
"আলহামদুলিল্লাহি আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাহু" এবং মন যা চায় তাই দোয়া করুন।
সাফা থেকে মারওয়া এক চক্কুর হলো, পুনরায় মারওয়া থেকে সাফা দ্বিতীয় চক্কর হবে। এভাবে মারওয়াতে সাত চক্কর শেষ হবে এবং প্রতিবারই যথানিয়মে দোয়া করবেন।

ধাপ-১২

সায়ী করার পর মাথা মুন্ডনের জন্য নাপিতের দোকানে (মারওয়ার ডান পাশে) বাহিরে চলে আসুন। মাথা মুন্ডানের পর এহরাম মুক্ত হলেন। মহিলাদের সমস্ত চুলের আগা থেকে দু আঙ্গুল পরিমান ছাটিয়ে এহরাম মুক্ত হতে হবে। আপনি নিজে হালাল হওয়ার পর আপনার দায়িত্তে থাকা মহিলার চুল ছেটে দিন। এহরাম মুক্ত মহিলা অন্য মহিলার চুল ছেটে দিতে পারবেন। বাসায় গিয়ে গোসল করে সাধারণ কাপড় পরে সম্পূর্ন হালাল হবেন অর্থাৎ এহরাম মুক্ত হলেন।
এহরাম বাধার পর গভীর মনোযোগের সাথে আল্লাহর আযমত বড়ত্ব, রহমত মাগফিরাত ইত্যাদির কথা ক্ষণে ক্ষণে স্মরণ করুন। বেশি বেশি দোয়া দরুদ পড়ূন, তালবিয়া পড়ূন। তালবিয়া কোণ উচু স্থানে উঠার সময়, নিচু জায়গায় নামার সময়, বসা থেকে উঠে দাড়ানোর সময়,দাড়ানো অবস্থা থেকে বসার সময়,কারও কাছে বেড়াতে গেলে সশব্দে তালবিয়া পড়ূন। কোরআন তিলাওয়াত করুন। হক্কানী আলেম আলোচনা করলে তা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। প্রতি ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করুন। বিমানে আরোহনরত অবস্থায় সালাতের সময় হলে একাকী সালাত আদায় করে নিন। অজু না থাকলে তায়াম্মুম করুন। সালাত কাযা করার অপেক্ষায় থাকবেন না। ৮ই জিলহজ্জ ইহরাম বাধার পর যেহেতু মুল হজ্জ শুরু হবে তাই ইহরাম খোলা পর্যন্ত নিজেকে কঠিনভাবে নিয়ন্ত্রন করুন। অন্যান্য হাজীদেরকেও নসিহত করুন, যেন সবাই তাওবা ইস্তিগফারের মধ্যে সময় কাটান। যারা হজ্জের কার্যাদি সম্পর্কে অজ্ঞ তাদেরকে আপনি যতটূকু জানেন ততটুকুই বলুন। হজ্জ পালনের জন্য সহীহ শুদ্ধ বই থেকে নিয়ম কানুন আগে থেকে জেনে রাখুন। এভাবে পুরা সময়টাকে ঈমানী ভাব গাম্ভীর্যতার সাথে কাটান।
ইহরাম অবস্থায় যেসব কাজ নিষিদ্ধ
(১) সেলাইযুক্ত যে কোন কাপড় বা জুতা ব্যবহার, এক্ষেত্রে স্পঞ্জ সেন্ডেলের ব্যবহার করা। মহিলারা সেলাই যুক্ত কাপড় পরতে পারবেন।
(২) মস্তক ও মুখমন্ডল (ইহরামের কাপড়সহ যে কোন কাপড় দ্বারা) ঢাকা,
(৩) পায়ের গোড়ালি ঢেকে যায় এমন জুতা পরা।
(৪) চুলকাটা বা ছিড়ে ফেলা,
(৫) নখকাটা,
(৬) ঘ্রানযুক্ত তৈল বা আতর বা যে কোণ পানীয় বস্তুতে কোন প্রকার সুগন্ধি ব্যবহার করা, সুগন্ধিযুক্ত সাবান ব্যবহার করা।
(৭) স্ত্রীর সঙ্গে সংগম করা,চুম্বন,আলিঙ্গন বা শৃঙ্গার জাতীয় কথা বলা।
(৮) যৌন উত্তেজনামূলক কোন আচরণ বা কোন কথা বলা,অশ্লীল কথা বলা, ঝগড়া বিবাদ করা।
(৯) শিকার করা বা শিকার করতে কাউকে সাহায্য করা।
(১০) ঝগড়া বিবাদ বা যুদ্ধ করা।
(১১) চুল দাড়িতে চিরুনী বা আঙ্গুলী চালনা করা, যাতে ছিড়ার আশংকা থাকে।
(১২) শরীরে সাবান লাগানো।
(১৩) উকুন, ছারপোকা, মশা ও মাছিসহ কোন জীবজন্তু হত্যা করা বা মারা।
(১৪) কোন গুনাহের কাজ করা, কথা ও কাজের মধ্যে কোন মুসলমান কে কষ্ট দেয়া
(১৫) মহিলাদের জন্য মুখাচ্ছাদন বা হাতের দস্তানা বা মোজা ব্যবহার করা
(১৬) এহরাম অবস্থায় কোন নারীকে বিবাহ করা, বিবাহ দেয়া এবং বিবাহের পয়গাম দেয়া।
এহরাম অবস্থায় কতিপয় মাসালাহ
১। এহরাম অবস্থায় যদি কেহ অজ্ঞতা বশ্ত সেলাই করা কাপড় পরে, কিংবা মুখ বা মাথা ঢেকে রাখে বা সুগন্ধি ব্যবহার করে অথবা চুল নখ ইত্যাদি কাটে তবে তাকে কোণ ফিদয়া বা জরিমানা দিতে হবে না।
তবে স্মরণ হওয়া বা বুঝতে পারার সাথে সাথে তা থেকে বিরত থাকতে হবে।
২। উপরোক্ত কাজ যদি কেহ জোর করেও করায় তাও কোণ জরিমানা দিতে হবেনা।
৩। ইহরাম অবস্থায় শুধু স্ত্রী সঙ্গম করলেই ইহরাম বাতিল হয়ে যাবে। এছাড়া অন্যান্য নিষিদ্ধ কাজগুলোর মধ্যে যে কোন একটী কাজ ইচ্ছাকৃত ভাবে করলে ইহরাম বাতিল হবেনা তবে ফিদয়া দিতে হবে।
৪। ইহরাম অবস্থায় চশমা,হাতঘড়ি,বেল্ট টাকা পয়সা বা কাগজপত্র রাখার জন্য সেলাইযুক্ত ব্যাগ ব্যবহার করা জায়েজ।
৫। ইহরাম অবস্থায় কাপড় বদলানো,কাপড় ধোয়া,গোসল করা,মাথা ও শরীর ধোয়া বৈধ। এতে যদি কোণ চুল বা লোম পড়ে যার তাতে কোণ দোষ নেই।
***আর ভুলের জন্য ফিদয়া হলোঃ

"মক্কা শরীফে হারাম এলাকার মধ্যে একটী ছাগল যবেহ করা বা তিন দিন রোজা রাখা অথবা ছয়জন মক্কার মিসকিনকে খাওয়ানো"
এহরাম অবস্থায় মাকরুহঃ
১। মাথার চুল,দাড়ী চিরুনি দ্বারা আচড়ানো।
২। চুল দাড়ি এমনভাবে চুলকানো যাতে উকুন পড়ে যেতে পারে।
৩। সুগন্ধি স্পর্শ করা অথবা ঘ্রাণ নেয়া।
৪। বালিশের উপর মুখ রেখে উপুড় হয়ে শোয়া।
হাজীদের সর্বপ্রথম কাজই হলো (তামাত্তু ও ক্বেরান কারীগণ) নিজের মালছামানগুছিয়ে রেখে পাকপবিত্র হয়ে মোটেই দেরী না করে 'হারাম শরীফে' হাজিরা দেওয়া এবং 'তাওয়াফ' করা। ওমরাহ এবং হজ্জের তাওয়াফ ব্যাতিত নফল তাওয়াফ ও করা যায়। যেমন: রাসূল (দঃ), সাহাবা-আওলিয়া, আহ্লে বাইত, মা-বাবা, পীর-উস্তাদ ও অন্যান্য মুরুব্বী বা সন্তানদের স্মরনে বা তাঁদের নামে তাওয়াফ করা।
তাওয়াফের নিয়্যত
আল্লাহুম্মা ইন্নী উরীদু তাওয়াফা বাইতিকাল হারাম ফায়াচ্ছিরহু-লী, ওয়া তাক্বাব্বাল-হু-মিন্নী, সাবাআ'তা আশ্ওয়াতি্বন লিল্লাহি তায়া'লা।
বাংলায় নিয়ত- হে আল্লাহ আমি তাওয়াফ পালনের জন্য নিয়ত করলাম।
তাওয়াফের ওয়াজিব সমূহ
(১) শরীর পাক-সাফ রাখা, ওজু করা। মহিলাদের হায়েজ নেফাছ অবস্থায় তাওয়াফ করা জায়েজ নাই।
(২) ছতর ঢাকা। অর্থাৎ যেটুকু ঢাকা প্রত্যেক পুরুষ-নারীর জন্য ফরজ।
(৩) 'হাতীমে কা'বার' বাইরে থেকে 'তাওয়াফ' করা।
(৪) পায়ে হেঁটে 'তাওয়াফ' করা। অম ব্যক্তি খাটিয়ার মাধ্যমে 'তাওয়াফ' করতে পারেন।
(৫) 'হাজ্রে আস্ওয়াদ' থেকে শুরু করে ডানদিক দিয়ে 'তাওয়াফ' শুরু করা।
(৬) এক নাগাড়ে বিরতিহীন ভাবে 'সাতবার চক্কর' দিয়ে 'তাওয়াফ' পূর্ণ করা।
(৭) 'সাত চক্করে' এক 'তাওয়াফ', এটা পূর্ণ হলেই 'তাওয়াফের' নামাজ পড়া।
তাওয়াফের সুন্নত সমূহ
(১) 'তাওয়াফে'র শুরুতে 'হাজারে আসওয়াদ' এর দিকে মুখ করা।
(২) সম্ভব হলে 'হাজ্রে আস্ওয়াদ' চুম্বন করা। নতুবা হাত দ্বারা দূর থেকে ইশারা করা, এবং মুখে 'বিসমিল্লাহি আল্লাহু আক্বার ওয়ালিল্লাহিল হ্ামদ' বলা।
(৩) 'হা্জ্রে অস্ওয়াদ' বরাবর দাঁড়িয়ে তাকবীরে তাহরিমা'র ন্যায় উভয় হাত সিনা পর্যন্ত উঠান।
(৪) যে 'তাওয়াফে'র পরে 'সাঈ' আছে তাতে 'এযতেবা' করা। অর্থাৎ ইহরামের চাদরের (উপরের অংশের) দুই মাথা ডান বগলের নিচ দিয়ে বাম কাঁধের উপর ফেলে দেওয়া।
(৫) 'সাঈ' যুক্ত 'তাওয়াফে'র প্রথম তিন চক্করে 'রমল' করা। অথর্াৎ বীরের মত হেলে দুলে জোর ক্বদমে (একের পর এক পা ফেলে) চলা।
(৬) বাকী চার চক্কর সাধারণ গতিতে (ধীরে ধীরে) সম্পন্ন করা।
(৭) প্রত্যেক চক্কর তাওয়াফ শেষ করে এবং শেষ চক্করেরও পরে 'হাজ্রে অস্ওয়াদ'কে চুম্বন করা।
সম্ভব না হলে দূর থেকে ইশারা করে বিসমিল্লাহে আল্লাহ আকবর ওয়ালিল্লাহিল হামদ্"দোয়াটি পাঠ করা এবং ৩ নং নিয়মের ন্যায় দাড়িয়ে ইশারা করে 'তাওয়াফ' শেষ করা।
সায়ী অর্থ দৌড়ান,সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝে দৌড়ানকেই সায়ী বলে। এখানে শাব্দিক অর্থে দৌড়ানো নয়, বরং স্বাভাবিক গতিতে হাটতে হবে। তবে এর কিছু অংশ যা সবুজ পিলার দ্বারা চিহ্নিত আছে, সেখানে দৌড়াতে হবে বা দৌড়ানোর ভান করতে হবে। কিন্তু মহিলা গন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হাটবেন। সায়ী করা ওয়াজিব।
সায়ীর শর্তসমূহ
১। নিয়ত বা সংকল্প করা
২। প্রথমে তাওয়াফ ও পরে সায়ী করা
৩। সাফা থেকে শুরু করা এবং মারওয়ায় শেষ করা
সায়ীর ওয়াজিব সমূহ
১। পায়ে হেটে সায়ী করা তবে কারন বশত কোণ কিছুতে আরোহন করেও সায়ী করা যায়
২। সাত চক্কর পূর্ন করা
৩। সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী স্থান পরিপূর্ণভাবে অতিক্রম করা।
সায়ীর সুন্নত পদ্ধতি
সায়ী করতে যাচ্ছে এই মর্মে প্রতিজ্ঞা করুন। সায়ীর পূর্বে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন স্পর্শ করুন। চুম্বন স্পর্শ সম্ভব না হলে, এক্ষেত্রে হাজরে আসওয়াদের দিকে ইশারা করার কোন বিধান নেই। এরপর সাফা পাহাড়ের দিকে এগিয়ে যান। সাফা পাহাড়ের নিকটোবর্তী হলে, রাসুলুল্লাহ(সঃ) এর অনুসরনে বলুন-
"ইন্নাস্‌সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শাআয়িরিল্লাহ।আব্দায়ু বিমা বাদায়াল্লাহু বিহি"
বাংলা অর্থঃ নিশ্চই সাফা মারওয়া আল্লাহর নিদর্শন। আমি শুরু করছি আল্লাহ যা দিয়ে শুরু করেছেন।
এরপর সাফা পাহাড়ে উঠে বায়তুল্লাহর দিকে মুখ করে দাঁড়াবেন। মোনাজাত করার জন্য দুই হাত কাধ বরাবর ওঠাবেন। এবং নিচের দোয়াটি দিয়ে মোনাজাত শুরু করবেন। রাসুলুল্লাহ (সঃ) সাফা পাহাড়ে উঠে যেসব দোয়া পড়েছিলেন তার মধ্যে এটি অন্যতম।
বাংলা উচ্চারনঃ "লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার। লা-ইয়াল-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারিকালাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ইউহয়ী ওয়া ইয়ুমীতু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর,লা-ইলা-হা ইলাল্লাহু ওয়াহদাহু লাশারিকা লাহু আনজাযা ওয়াদাহু,ওয়া নাছারা আব্দাহু ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহ। "
অর্থঃ "আল্লাহ ব্যাতীত কোন ইলাহ নেই এবং আল্লাহ মহান। আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই, তিনি এক। তার কোন অংশীদার নেই,রাজত্ব তারই। প্রশংসাও তাঁর। তিনি জীবন ও মৃত্যু দেন ও সকল বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান।আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই তিনি এক। তাঁর কোন শরীক নেই,তিনি তাঁর অঙ্গীকার পূর্ণ করেছেন, ও তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই শত্রুদের পরাজিত করেছেন। "
এ দোয়াটি তিনিবার পরুন এরপর অন্যান্য দোয়া যা আপনার মুখস্ত আছে তা পড়ুন। আরবী ভালো না বুঝলে নিজ ভাষায় মহান আল্লাহর প্রশংসা করুন ও আপনার বৈধ ইচ্ছাগুলো তাঁর দরবারে পেশ করুন। মাতা পিতা আত্তীয় স্বজন সকলের জন্য দোয়া করুন। দোয়া শেষ হলে মারওয়ার দিকে রওয়ানা হবেন। যেসব দোয়া মনে আসে পড়তে থাকুন। সাফা থেকে নেমে কিছু দূর এগুলেই ওপরে ও ডানে বামে সবুজ বাতি জ্বালানো দেখবেন। এই জায়গাটুকু পুরুষ হাজিগন দৌড়ানোর মত করে দ্রুত গতিতে হেঁটে চলুন। পরবর্তী সবুজ বাতীর নিকট পৌঁছে গেলে গতি স্বাভাবিক করুন। তবে নারীদের ক্ষেত্রে চলার গতি সর্বদা স্বাভাবিক থাকবে। দুই সবুজ বাতির মাঝখানের জায়গায় চলার সময় এই দোয়া পড়ূনঃ
"রাব্বিগ্‌ফির ওয়ার্‌হাম, ইন্নাকা আন্‌তাল আয়া'য্‌যুল আকরাম"
অর্থঃ "হে আমার প্রতিপালক আমাকে ক্ষমা করুন ও রহমত করুন। নিশ্চয়ই আপনি শক্তিশালী ও সন্মানিত"
মারওয়া পাহাড়ে পৌছানোর পর সাফায় পড়া দোয়াটি পড়োতে হবেনা। মারওয়ায় উঠে একিভাবে কাবার দিকে মুখ করে হাত উঠিয়ে দোয়া করবেন। ফেরার পথে সবুজ বাতির এখানে দ্রুত গতিতে পার হবেন। মনে রাখবেন, সাফা মারওয়া দোয়া কবুলের জায়গা তাই সায়ী শেষ করে তাড়াতাড়ি চলে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না।

প্রায় প্রত্যেকবারই এই সমস্যাটিতে কোন না কোন হাজি পড়ে থাকেন। হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু এতে উদ্বিগ্ন হওয়া বা ভয় পাওয়ার কোন কারন নেই। বরং মাথা ঠান্ডা রাখুন, পার্শ্ববর্তী লোকজনের সাহায্য নিন। এরকম সমস্যায় পড়োলে কি করবেন তারই কিছু উপায় বলছি এখানেঃ

নিশ্চিত থাকুন,আপনি চিরতরে হারিয়ে যাবেন না ইনশাল্লাহ। তবে নির্দেশিকাগুলো মেনে চললে সহজেই দলের সাথে মিলিত হতে পারবেন।
মোয়াল্লেম কর্তৃক প্রদত্ত বেল্টটি অবশ্যই সর্বাবস্থায় হাতে পরিধান করে থাকবেন।কোন অবস্থাতেই ঘরে বা পকেটে রাখবেন না।মোয়াল্লেম অফিস নাম্ভার টি মনে রাখুন
বাসার অবস্থান কাগজে লিখে নিন এবং মনে রাখার ও চেষ্টা করুন। ওখানে বাড়ির কোন নাম্ভার নেই।
অগত্যা বাসা খুজে না পেলে মোয়াল্লেমের অফিসে গিয়ে বসে থাকুন।আপনার দলের লিডার আপনাকে নিয়ে আসবে। বেল্টে প্রদত্ত নম্বর অনুযায়ী অতি সহজেই মোয়াল্লেমের অফিস পেয়ে যাবেন।
মিনাতে অবস্থান কালে অবশ্যই মিনার কার্ড গলায় ঝুলিয়ে রাখুন। কোণ অবস্থাতেই উক্ত কার্ড হজ্জের পাঁচ দিন গলা থেকে খুলবেন না।আপনার হজ্জ গাইডের দেয়া ম্যাপটিও সাথে রাখুন।
মিনায় হারিয়ে গেলে উক্ত কার্ড পুলিশ বা সেচ্ছাসেবক কে দেখান,তারা আপনাকে তাবুর অবস্থান বলে দেবেন এবং এভাবে তাবু পেয়ে যাবেন।
মদিনায় পুরুষ ও মহিলাদের আলাদা গেইট দিয়ে প্রবেশ করতে হয় তাই একটি টয়লেটের নম্বর নির্দিষ্ট করে নিন কারন অন্য কোথাও কোণ নাম্ভার নেই তারপর নামাজ শেষে ঠিক ঐ নাম্ভারের সামনে এসে মিলিত হবেন। বাড়ির ঠিকানা সম্বলিত কার্ড টি সাথেই রাখুন সর্বদা।

জান্নাতুল বাকী


মদিনা শরীফের পূর্ব পাশেই অবস্থিত বিরাট একটি কবরস্থান, এ কবরস্থানে অসন্নগখ্য সাহাবা,আউলিয়া,অসংখ্য শহীদ ও বুযুর্গ নেককার পুরুষ ও মহিলা এবং ধার্মিক মুসলমানদের মাজার রয়েছে। তন্মধ্যে হযুরত মা ফাতেমা (রাঃ), হযরত ওসমান (রাঃ),হযরত আয়শা(রাঃ) এবং আরো অনেকেই রয়েছেন। সম্ভব হলে প্রতিদিন জান্নাতুল বাকী জিয়ারত করার চেষ্টা করবেন।

মসজিদে কেবলাতাইন


এ মসজিদে নবীজীর কাছে জোহর নামাম পড়ারত অবস্থায় ওহি নাজিল হয় যে,তুমি এখনি এ অবস্থায় কাবার দিকে কেবলা করে নামাজ সমাধা করো, নবীজী মাত্র দু রাকাত ফরজের ইমামতি করেছেন। আদেশ পাওয়া মাত্র তিনি কাবা শরীফের দিকে ঘুরে বাকি দু রাকাত নামাজ সমাধা করেন। এখানে দু রাকাআত নফল নামাজ পড়ে দোয়া দরুদ পাঠ করা উত্তম।

মসজিদে কোবা


এটি ইসলাম জগতের সর্ব প্রথম মসজিদ, নবীজী নিজ হাতে মসজিদটি তৈরী করেন,এটি মদিনা শহর থেকে দক্ষিণ পশ্চিম দিকে তিন মাইল দূরে অবস্থিত,এখানে দু রাকাত নফল নামাজ পড়া উত্তম।

মসজিদে জুম'আ


এ মসজিদ টি কোবা মসজিদ থেকে বামদিকে বনী সালেমের মহল্লায় অবস্থিত,হযরত রাসূলে করিম (সঃ) প্রথম জুময়ার নামাজ এ মসজিদে পড়েন।

মসজিদে গামামা


এটি মনাখা নামক স্থানে অবস্থিত, হযরত রাসূলে করিম (সঃ) এ মসজিদে দু ঈদের নামাজ আদায় করতেন। এক সময় বৃষ্টির জন্য ইসতিসকার নামাজ পড়ছিলেন। আরবীতে গামামা অর্থ মেঘ।

মদিনা জিয়ারত

1. হজ্জ সমাপনন্তে আশেকে রাসূল (সঃ) এর সোনার মদিনায় জিয়ারতে চলবেন।
2. যেখানে হুজুরের মসজিদ ও রওজা শরীফ আছে।
3. হাদিস শরীফে আছে, নবী করিম (সঃ) বলেছেন, “যে আমার কবর জিয়ারত করবে তার জন্যে আমার শাফায়াত করা ওয়াজিব হবে”
4. অন্য এক হাদিসে আছে, “ আমার মৃত্যুর পর যে হজ্জ করে আমার কবর জিয়ারত করবে সে যেন জীবিত অবস্থায়ই আমার সাথে দেখা করলো”
5. হুজুর আরো ফরমায়েছেন, “হজ্জ করল অথচ আমার কবর জিয়ারত করল না সে আমার সাথে গোস্তাখি করল”
6. হাদিস শরিফে আছে, “যে আমার কবর জিয়ারত করবে সে আমার কিয়ামতের দিন পড়শী হয়ে থাকবে”
7. মদিনা শরিফে এসে অন্য কোন কাজে লিপ্ত হবেন না।
8. বাসায় সামান রেখেই প্রয়োজনীয় গোসল অজু শেষ করে নামাজের সময় হলে অত্যন্ত আদবের সাথে মসজিদে নববীতে হাজির হয়ে জামাতের সাথে নামাজ আদায় করবেন।
9. মসজিদে নববীতে হাজির হয়ে পাঠ করবেন- বিস মিল্লাহি ওয়াছ ছালাতু ওয়াসালামু আলা রাসূলিল্লাহি আল্লাহুম্মাগ ফরলি জুনুবী-ওয়াফ তাহলী আবওয়াবা রাহমাতিকা।
10. মসজিদে নববীতে ঢুকেই দু’রাকাত তাহিয়্যাতুল মাসজিদ নামাজ পড়ে আল্লাহর নিকট শুকরিয়া আদায় করুন।
11. সর্বদা সতর্ক থাকবেন যেন মদিনা শরিফে কোনরুপ বেয়াদবী না হয়।
12. মদিনাবাসীদের সব সময় ইজ্জত ও সম্মান প্রদর্শন করুন।
13. মসজিদে নববীতে পুরুষ ও মহিলাদের আলাদা আলাদা গেট রয়েছে।
14. নামাজ, জিয়ারত ইত্যাদি আলাদা হয়ে করতে হয়।
15. তবে সাথি মহিলাগনকে গেট নাম্বার ও খাম্বা দেখিয়ে অপেক্ষার স্থান নির্ধারণ করে দিতে পারেন।
16. তাহলে এক সাথে বাসায় আসা যাওয়া করতে পারবেন।
17. মাটির নিচে আলাদা পুরুষ ও মহিলাদের প্রস্রাব পায়খানা ও অজু করার ব্যবস্থা আছে।
18. প্রয়োজনে তা ব্যবহার করতে পারেন।
19. মদিনায় অবস্থানকালে প্রথম ও প্রধান কর্তব্য হল মসজিদে নববীতে হাজিরা দেয়া।
20. সেখানে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করতে হবে।
21. এখানে একাদিক্রমে ৪০ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করতে হবে।

নবীজির রওজা

1. প্রথমে মসজিদে নববীতে ডান পা রেখে অতি আদবের সাথে ঢুকবেন।
2. তারপর রওজা শরিফ এবং মিম্বরের মাঝ খানে রিয়াজুল জান্নাত (সাদা গালিচা) বা বেহেশতের বাগিচার টুকরা রয়েছে, সেখানে দু’রাকাত নামাজ পড়বেন।
3. প্রথম রাকাতে সূরায়ে কাফিরুন এবং ২য় রাকাতে সূরায়ে ইখলাস পড়বেন।
4. নামাজ অন্তে এত বড় আজিমুশশান দরবারে উপস্থিত হবার সৌভাগ্য হাসিল হয়ে জীবনের আকাংখা পূর্ণ হয়েছে, এই জন্যে আল্লাহর শানে সিজদা করে শুকরিয়া আদায় করুন।
5. এ জিয়ারত যাতে আল্লাহর দরবারে কবুল হয় সেজন্যে প্রানের আবেগ অশ্রু সিক্ত নয়নে আল্লাহর দরবারে নত হয়ে হাত পেতে মুনাজাত করবেন।
6. তারপর পিছনের দিক দিয়ে (পায়ের দিক দিয়ে) একান্ত আদবের সাথে নবী করিম (সঃ) এর রওজার সামনে হাজির হয়ে কেবলার দিকে পিঠ দিয়ে দাঁড়িয়ে আপনার সালাম জানাবেন।
7. মনে মনে ভাববেন যে, আপনি স্বয়ং নবীজিকে দেখছেন ও তিনি আপনার সালাম শুনছেন ও জবাব দিচ্ছেন।
8. একাগ্রচিত্তে একমনে দাঁড়িয়ে সালাম আরজ করবেন, খবরদার যেন বেয়াদবি না হয়।

সালাম

1. আচ্ছালাতু ওয়াচ্ছালামু আলাইকা ইয়া রাসূলুল্লাহ। 2. আচ্ছালাতু ওয়াচ্ছালামু আলাইকা ইয়া নাবীয়াল্লাহ। 3. আচ্ছালাতু ওয়াচ্ছালামু আলাইকা ইয়া সাফিয়াল্লাহ। 4. আচ্ছালাতু ওয়াচ্ছালামু আলাইকা ইয়া খাইরা খালকিল্লাহ। 5. আচ্ছালাতু ওয়াচ্ছালামু আলাইকা ইয়া সায়্যাদাল মুরসালিন। 6. আচ্ছালাতু ওয়াচ্ছালামু আলাইকা ইয়া খাতামান নাবীয়্যিন। 7. আচ্ছালাতু ওয়াচ্ছালামু আলাইকা ইয়া রাহমাতাল্লীল আলামীন। 8. আচ্ছালাতু ওয়াচ্ছালামু আলাইকা ইয়া মাহবুবা রাব্বিল আলামীন। 9. আচ্ছালাতু ওয়াচ্ছালামু আলাইকা ইয়া শাফিয়াল মুজনাবীন।
রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর উছিলা দিয়ে আল্লাহর দরবারে শাফায়াতের দোয়া মাগবেন, নিবিষ্টতার সাথে নিজের ইচ্ছেমত যেকোন দোয়া করতে পারেন।
রেয়াজুল জান্নাত বা বেহেশতের বাগিচায় নামাজ পড়া ও কোরআন তিলাওয়াত করা অত্যন্ত ভাগ্যের ব্যাপার।
মসজিদে নববীতে এক রাকাত নামাজের সওয়াব ৫০ হাজার রাকাতের সমান
নবীজির পাশেই রয়েছে আবু বকর (রাঃ) ও ওমর (রাঃ) এর মাজার, সাথে সাথেই জিয়ারত করুন।
মসজিদে নববীর ৪১টি গেইট আছে, প্রতি গেটে একাধিক দরজা আছে, দরজা বিভিন্ন নামে পরিচিত।
এর মাঝে বাবে জিব্রাইল (আঃ), বাবে বাকি, বাবে নিসা, বাবে রহমত, বাবে আবু বকর (রাঃ) উল্লেখযোগ্য।
হাজী সাহেবগন প্রতিদিন হুজুরপাক (সঃ) এর রওজা মোবারকে প্রতিদিন হাজির হয়ে দুরুদ ও সালাম পেশ করবেন।
রিয়াজুল জান্নাত ও রহমতের স্তম্ভের বিবরণ
রাসূলুল্লাহ (সঃ) হুজরা মুবারাক ও মিম্বরের মাঝখানের স্থানকে রিয়াজুল জান্নাত বা বেহেশতের বাগান বলা হয়। এখানে নামাজ আদায়ের অনেক ফযিলত। রিয়াজুল জান্নাতের ৭টি স্তম্ভ আছে, এগুলোকে রহমতের স্তম্ভ বলা হয়।

1. উস্তুওয়ানা হান্নানা

এ স্তম্ভটি মেহরাবে নববীর ডান দিকে অবস্থিত, যা মিম্বর তৈরী হবার পর নবীজি (সঃ) কর্তৃক পরিত্যাক্ত হলে তা উচ্চস্বরে কান্নাকাটি করেছিল। কারন নবী (সঃ) ওটির উপর হেলান দিয়ে খোতবা দিতেন, উপস্থিত সকলে তাঁর কান্না শুনেছিলেন, এটি একটি মোজেযার অন্তর্ভুক্ত।

2. উস্তুওয়ানা ছারীর

এখানে নবী পাক (সঃ) এতেকাফ করতেন ও তাঁর বিশ্রামের জন্যে এখানে বিছানা পাতা থাকতো, এটি হুজুরা পাকের পশ্চিম পাশে জালি মোবারকের সাথে অবস্থিত।

3. উস্তুওয়ানা উফুদ

এখানে বিদেশী প্রতিনিধির সাথে নবী (সঃ) দেখা করতেন ও আলাপ করতেন, তারা ইসলাম কবুল করতেন, এছাড়া নবী (সঃ) এর নিকট হতে সবক হাসিল করতেন।

4. উস্তুওয়ানা হারস

নবী করিম (সঃ) নিজ গৃহে চলে গেলে কোন না কোন সাহাবী এখানে পাহারায় থাকতেন, এটিও হুজরা পাকের পশ্চিম পাশে জালি মোবারক ঘেঁষে অবস্থিত।

5. উস্তুওয়ানা আয়েশা (রাঃ)

হুজুরপাক (সঃ) ইরশাদ করেন, আমার মসজিদে এমন একটি জায়গা আছে, যেখানে নামাজের সওয়াবের কথা মানুষ জানতে পারলে প্রতিযোগিতা এড়াবার জন্যে লটারির সাহায্য নিত। নবীজির ইন্তেকালের পর আয়েশা (রাঃ) আব্দুল্লাহ বিন যোবায়েরকে জানিয়ে দেন, সেই জায়গাটি হল উস্তুওয়ানা আয়েশা (রাঃ), এটি উস্তুওয়ানা উফুদ এর প শ্চিম পাশে জান্নাতের অংশে অবস্থিত।

6. উস্তুওয়ানা আবু লুবাবা (রাঃ)

মানবিক দুর্বলতার কারনে আবু লুবাবা (রাঃ) একটা ভুল করেছিলেন, পরে অনুশোচনার জ্বালা সইতে না পেরে নিজেকে এই স্তম্ভের সাথে বাধেন, এবং বলেন নবীজি (সঃ) বন্ধন না খোলা পর্যন্ত এ অবস্থায় থাকবো। নবীজি (সঃ) তখন বলেছিলেন, আল্লাহ পাকের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত খুলবো না। এ অবস্থায় ৫০ দিন চলে যাবার পর তার তওবা কবুল হয় ও নবীজি (সঃ) নিজেই সে বন্ধন খুলে দেন।

7. উস্তুওয়ানা জিব্রাইল (আঃ)

জিব্রাইল (আঃ) যখনই দেহইয়া কাবালি (রাঃ) এর আকৃতি ধারন করে নবীজি (সঃ) এর নিকট আসতেন, তখন অধিকাংশ সময়া তাঁকে এখানেই উপবিষ্ট দেখা যেত।
মদিনা শরীফ থেকে বিদায়/ মক্কা রওনা
1. মদিনা শরীফ থেকে বিদায়ের পূর্বে পবিত্র রওজা শরীফ গিয়ে নবীজি (সঃ) ও অন্যান্য নবীগনকে বিদায়ী সালাম জানাবেন।
2. মসজিদে নববীতে দু’রাকাত নফল নামাজ পড়ে, বিদায়ী সালাম ও দোয়া দুরুদ পড়ে বিদায় নিন।
3. জেদ্দা বিমান বন্দরে রওনা দিন
4. অথবা যারা আগে মদিনা জিয়ারত করেছেন তারা মক্কার পথে চলুন, চলার পথে গাড়িতে দল করে তালবিয়া পাঠ করুন।
5. মদিনা হতে মক্কা আসার পথে “বীরে আলী বা জুলহুলায়াফা” নামক স্থানে এহরাম বাঁধতে হবে, সেখানে সব ব্যবস্থা আছে।
6. বিনা এহরামে মক্কা শরীফে প্রবেশ করা জায়েজ নয়।
7. যে স্থান থেকে এহরাম বাঁধা হয় তাঁকে মিকাত বলে।
মসজিদে নববীতে নামাজের ফজিলত
1. হাদিসঃ আবু হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, হুজুর পাক (সঃ) বলেন, “ আমার এ মসজিদে এক রাকাত সালাত আদায়, মসজিদুল হারাম ছাড়া অন্যকোন মসজিদে এক হাজার রাকাত সালাতের চেয়ে উত্তম”।
2. অপর এক হাদিসে (মুসলিম শরীফে) উল্লেখ আছে, “মসজিদে নববীতে এক রাকাত নামাজ পড়লে, ৫০ রাকাত নামাজের সওয়াব পাওয়া যায়”।
3. হাদিস- নবীজি (সঃ) ইরশাদ করেন, “ যে লোক একাধারে আমার মসজিদে ৪০ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবে, সে মুনাফেকী ও দো্যখ থেকে মুক্তি পাবে”।